দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা-দাদ রোগের ঔষধ সম্পর্কে জানুন


আসসালামু আলাইকুম। আজকে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করব সেটি অত্যন্ত পরিচিত একটি বিষয়। বিষয়টি হচ্ছে দাদ রোগ সম্পর্কে। এই রোগটা প্রায় লোকের হয়ে থাকে। কিন্তু অনেকেরই এই রোগের খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জানা নেই। 
দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা-দাদ রোগের ঔষধসুতরাং দাদ রোগ কি কারনে হয়, কিভাবে চিকিৎসা নিতে হয় ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। আর এই আর্টিকেলে দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা এবং ঔষুধ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। তাই চলুন জেনে নিই দাদ রোগের জানা-অজানা তথ্য সম্পর্কে।

পেজ  ‍সূচিপত্রঃ দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা-দাদ রোগের ঔষধ

ভূমিকা

দাদ রোগের নাম শুনেনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। দাঁত রোগ ছোঁয়াচে বিধায় এটি একজনের কাছ থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। আমরা অনেকেই এই রোগকে অবহেলা করে থাকি। দাদ রোগ শরীরের বিভিন্ন স্থানে হয়ে থাকে। যেমন হাত, পা, পায়ের আঙ্গুল, হাতের আঙ্গুল, রানের চিপায় ইত্যাদি। এই রোগ সাধারণত চামড়ার উপরে দেখা যায় এবং গোলাকার চাকতির মত হয়ে যায়।এই রোগ বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। ভেজা কাপড় ব্যবহার করলে, রোগাক্রান্ত ব্যক্তির জিনিসপত্র ব্যবহার করলে এ রোগ হতে পারে।

তাই এই রোগটি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এছাড়াও কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে দাদ রোগের চিকিৎসা করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। তাই দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা কিভাবে নিতে হয় সেটি জানার জন্য আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে পড়ুন।

দাউদ কেন হয়

দাউদ রোগ ছোট হওয়ায় অনেকেই এই রোগটিকে অবহেলা করে থাকে। দাউদ রোগটিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। অনেকেই আমরা জানি না দাউদ কেন হয়। তাই দাউদ রোগের উৎপত্তিস্থল বা দাউদ কেন হয় এ সম্পর্কে আগে জানতে হবে। তাই চলুন জেনে নিই দাউদ হওয়ার কারণগুলো কি কি।
  • ভেজা জামাকাপড় পরিধান করলে এই রোগ হতে পারে।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির জিনিসপত্র ব্যবহার করলে এই রোগ হয়ে থাকে।
  • অপরিষ্কার এবং একই কাপড় বারবার পরিধান করলে এর রোগ হতে পারে।
  • শরীর অতিরিক্ত ঘামার ফলেও এই রোগ হতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যদি কমে যায় সেক্ষেত্রে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • দীর্ঘ সময় পায়ে মোজা পরে থাকার কারণেও এ রোগ হতে পারে।
সুতরাং উপরোক্ত কারণগুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে যেগুলোর কারণে দাউদ হতে পারে। যেমন কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি থেকেও দাউদ হতে পারে। তাই দাউদ রোগটিকে অবহেলা করে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। এবং উপরোক্ত কারণগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।

দাউদ কিভাবে ভালো হয়

দাউদ বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে এটা আমরা উপরের আলোচনায় জেনেছি। কিন্তু এই দাউদ হলে অনেক চুলকানি শুরু হয়ে যায় এবং অনেক যন্ত্রণাদায়ক একটি রোগ। এই রোগ ছোঁয়াচে তাই এর চিকিৎসা দ্রুত করতে হবে। দাউদ ভালো করার ক্ষেত্রে কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নিই সেই উপায় গুলো কি কি।
  • অ্যালোভেরা দাদ ভালো করার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী। অ্যালোভেরাতে যে রেজিন রয়েছে তা চুলকানি, যন্ত্রণা উপশমে খুবই সহায়ক। অ্যালোভেরার পাতার রস ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
  • এক্ষেত্রে হলুদ খুবই উপকারী একটি উপাদান। তবে এক্ষেত্রে কাঁচা হলুদের রস ক্ষতস্থানে ব্যবহার করতে হবে।
  • পেঁপে দাদ ভালো করার ক্ষেত্রে অনেক উপকারী একটি উপাদান। এক্ষেত্রে পেঁপে বেটে ক্ষতস্থানে লাগালে ভালো উপকার পাওয়া যায়।
  • ক্ষতস্থানে কর্পূর ব্যবহার করলে দাদ দ্রুত সেরে ওঠে।
  • দাদ ভালো করার ক্ষেত্রে ভিনেগার খুবই উপকারী একটি উপাদান।
  • তুলসী পাতার রস ব্যবহার করলে দাদ ভালো করার ক্ষেত্রে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
  • রসুন দাদ ভালো করার ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। রসুন বেটে সেটি ব্যবহার করলে দাদ দ্রুত ভালো হয়।
উপরোক্ত উপায় গুলো ছাড়া হবে আরও বিভিন্ন ধরনের উপায় রয়েছে যেমন নিমপাতা, নারিকেল তেল ইত্যাদির ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অবশেষে বলবো দাদ রোগ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

দাদ হলে কি খাওয়া নিষেধ

দাদ অস্বস্তিকর এবং যন্ত্রণাদায়ক একটি মারাত্মক রোগ। দাদ রোগ দেহের যেকোনো অংশে হয়ে থাকে। ছত্রাকের সংক্রমণের ফলে এ রোগ হয়ে থাকে। তাই যে খাবারগুলো খেলে ছত্রাক বৃদ্ধি পায় সেগুলো এড়িয়ে চলাই উচিত। অতিরিক্ত চিনি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। কারণ চিনি খেলে ছত্রাক বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অতিরিক্ত অ্যালকোহল জাতীয় খাবার গুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।
পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলো না খাওয়াই ভালো। এসব খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে তোলে। তবে দাদ হলে এই খাবারগুলো থেকে বিরত থাকাই ভালো হবে। আর দাদ হলে কি খাওয়া যাবে আর কি খাওয়া যাবেনা এ বিষয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

দাদ হলে কি করা উচিত

দাদ যেহেতু ছোঁয়াচে রোগ, সেহেতু দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ না করলে এটি একজনের কাছ থেকে অন্য জনের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। দাদ হলে ব্যবহারের সকল জিনিসপত্র আলাদা করে নিতে হবে। জামা কাপড় যেন ঢিলেঢালা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। জামা কাপড় নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। অপরিষ্কার জামাকাপড় ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে ভেজা জামাকাপড় কোনভাবেই পরিধান করা উচিত নয়। সুতরাং দাদ হলে অবশ্যই ডাক্তারের বা চিকিৎসকের চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

পুরাতন দাদ এর চিকিৎসা

এমন অনেক ব্যক্তি আছে যাদের পুরাতন দাদ রয়েছে। এই পুরাতন দাদ ভালো করার জন্য প্রথমেই আপনাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসক যে পরামর্শ দিবেন সে অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। দাদ এর চিকিৎসা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে। তাই পুরাতন দাদ এর চিকিৎসা করার জন্য চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

দাদ হলে কি সাবান ব্যবহার করা যায়

দাদ হলে সাবান ব্যবহার করা যাবে কিনা এটা আমরা অনেকেই জানিনা। আবার সাবান ব্যবহার করা হলেও কি সাবান ব্যবহার করতে হবে সেটাও আমরা জানি না। তবে দাউদ হলে একপ্রকার সাবান ব্যবহার করা যায়। এটি অনেকে ব্যবহার করে থাকে। আবার অনেকে শ্যাম্পু ব্যবহার করে থাকে।
তবে দাদ হলে কি সাবান ব্যবহার করা যাবে আর কি ব্যবহার করা যাবে না সেটা অবশ্যই ডাক্তারের সাথে আলোচনা করা প্রয়োজন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাবান ব্যবহার করতে হবে। তাই কোন কিছু ব্যবহার করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

দাদ কি ছোঁয়াচে

সাধারণত ছত্রাক সংক্রমণের কারণে দাদ হয়ে থাকে। আবার এই দাদ হওয়ার পিছনে অনেক কারণ রয়েছে। কি কি কারণে দাদ হতে পারে তা উপরে আলোচনা করা হয়েছে। আবার অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে দাদ রোগ ছোঁয়াচে কিনা। তবে আজকে এই আলোচনায় জানতে পারবেন দাদ রোগ ছোঁয়াচে কিনা। হ্যাঁ, দাদ রোগ একটি ছোঁয়াচে রোগ। এটি একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে ছড়াতে পারে। এজন্য আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে রাখতে হবে। যেহেতু দাদ ছোঁয়াচে রোগ তাই এর চিকিৎসা দ্রুত করতে হবে। এজন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

রানের চিপায় দাউদ কেন হয়

দাউদ শরীরের বিভিন্ন স্থানে হতে পারে। তবে যে সকল স্থানে আলো বাতাসের প্রবেশ খুব কম সেখানে দাউদ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এক্ষেত্রে রানের চিপায় দাউদ হয়ে থাকে। আর রানের চিপায় দাউদ হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যেমনঃ
  • আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র অন্যজন ব্যবহার করলে সেক্ষেত্রে দাউদ হতে পারে।
  • নোংরা বা অপরিষ্কার কাপড় পরিধান করলে দাউদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • গোপনাঙ্গের চুল কাটতে অন্যজনের ব্যবহৃত ব্লেড ব্যবহার করলে সেক্ষেত্রে দাউদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আরও পড়ুনঃ কাঁচা মরিচ বেশি খেলে কি হয়
  • কাপড় ভালোভাবে না শুকিয়ে ভেজা কাপড় পরিধান করলে দাউদ হতে পারে।
  • মশাতে কামড় দিলেও দাউদ হতে পারে।
  • যৌন মিলনের পর ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। তা না হলে সেক্ষেত্রে দাউদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
উপরোক্ত কারণগুলোর ফলে দাউদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও আরো বিভিন্ন কারণে রানের চিপায় দাউদ হতে পারে। আর এক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

রানের চিপায় দাউদের ঘরোয়া চিকিৎসা

রানের চিপায় দাউদ হলে সেক্ষেত্রে কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। যেগুলো ব্যবহার করার ফলে এই দাউদের যন্ত্রণা থেকে অনেকাংশে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নিই সেই ঘরোয়া চিকিৎসা কি।
  • নিম পাতা এক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। পাশাপাশি নিম তেল ব্যবহার করলে দাউদ অনেকাংশে কমে যায়।
  • রসুন বেটে ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে অনেক ভালো উপকার পাওয়া যায়।
  • দাউদ ভালো করার ঘরোয়া উপায় গুলোর মধ্যে আরেকটি উপায় হচ্ছে ক্ষতস্থানে নারিকেল তেল ব্যবহার করলে দাউদ অনেকাংশে কমে যায়।
  • বাটা পুদিনা পাতায় কিছু লেবুর রস দিয়ে সেই মিশ্রণ ক্ষতস্থানে লাগালে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
  • ঘৃতকুমারীর রস দাউদ ভালো করার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং বলা যায়, রানের চিপায় দাউদ হলে উপরোক্ত উপায় গুলো ব্যবহার বা অনুসরণ করলে দাউদ নিরাময়ে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। আর কোন কিছু ব্যবহার বা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী খেতে বা ব্যবহার করতে হবে।

রানের চিপায় দাউদ হলে করণীয়

অনেকের রানের চিপায় দাউদ হয়ে থাকে। এই রানের চিপায় দাউদ হলে কিছু করণীয় রয়েছে। রানের চিপায় দাউদ হলে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আলাদা করে নিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির জিনিসপত্র যেন অন্যজন ব্যবহার না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দাউদ যদি ছোট হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে মধু ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাদ্যগুলো খাওয়া উচিত। 
আর দাউদ যেহেতু ছোঁয়াচে রোগ এবং অনেক মারাত্মক রোগ সেজন্য দাউদের দ্রুত চিকিৎসা করতে হবে। আর এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী সকল নির্দেশনা পালন করতে হবে।

শেষ কথা

পরিশেষে, দাউদ রোগকে ছোট মনে করে অবহেলা করলে পরবর্তীতে সেক্ষেত্রে অনেক বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দাউদ রোগ বড় হওয়ার আগেই দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। আর আমরা এই আর্টিকেলে জানতে পারলাম দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে এর পাশাপাশি আরো জানলাম দাদ রোগ হওয়ার কারণ কি কি রয়েছে সেই সম্পর্কে।

আশা করি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে দাদ রোগ সম্পর্কে জানতে পেরে উপকৃত হয়েছেন। তাই উপকৃত হয়ে থাকলে পোস্টটি অবশ্যই শেয়ার করে দিন এবং নতুন নতুন তথ্য পেতে এই ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন। পোস্টটি ধৈর্য সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।.
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url