আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা-আমাশয় রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার


আসসালামু আলাইকুম। আজকের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমাশয় রোগের সাথে সবাই পরিচিত। এই রোগ সম্পর্কে অনেকের ধারণা আছে আবার অনেকের ধারণা নেই। এই রোগের সকল খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে সকলের ধারণা থাকা উচিত। আর এই আর্টিকেলে আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা ও প্রতিকার ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। 
আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা-আমাশয় রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
তাই যাদের আমাশয় রোগ সম্পর্কে ধারণা নেই তারা এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তাই চলুন জেনে নিন আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা, রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে।

পেজ সূচিপত্রঃ আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা-আমাশয় রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

ভূমিকা

আমাশয় সাধারণত রোগ জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত একটি রোগ। এই জীবাণুগুলো সাধারণত হাত, অপরিষ্কার খাবার, পানি ইত্যাদির মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে থাকে। এই রোগ হলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। পেট ব্যথা সহ পাতলা পায়খানা শুরু হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে পেটের মধ্যে খিচুনি দিয়ে ওঠে। আমাশয় হলে দেহে কিছু পানি শূন্যতার অভাব দেখা দেয়। তখন পানি শূন্যতার অভাব দূর করার জন্য ওরস্যালাইন খাওয়া হয়। আমাশয় রোগে আক্রান্ত হলে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যায়। আমাশয় হলে মলের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, বারবার পায়খানা হওয়া। আমাশয় যন্ত্রণাদায়ক এবং অস্বস্তিকর একটি রোগ। আমাশয় রোগের ক্ষেত্রে দেরি না করে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা

আমাশয় রোগের খাবারের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। কিছু কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খেলে আমাশয় রোগের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। আর এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খেলে আমাশয়ের ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যায়। আমাশয় রোগী সাধারণত ডাবের পানি, ফলের রস ইত্যাদি খেলে উপকার পেয়ে থাকে। আমাশয় রোগ হলে এই তরল জাতীয় খাবার গুলো বেশি বেশি খাওয়া উচিত। সাথে সাথে ভাতের মাড়ি খেতে হবে। এছাড়াও দই ডায়রিয়া রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। আবার শাক সবজির মধ্যে কাঁচা কলা, মাশরুম, গাজর ইত্যাদি আমাশয় রোগের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী। এক্ষেত্রে কাঁচা কলার ভর্তা খুবই উপকারী। আমাশয় রোগের ক্ষেত্রে পানি এবং স্যালাইন অধিক পরিমাণে পান করা উচিত।
আবার এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো খাওয়া আমাশয় রোগের ক্ষেত্রে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হবে। যে খাবারগুলোতে চিনি রয়েছে সেগুলো পরিহার করা উচিত। চা বা কফি ডায়রিয়া অবস্থায় খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে আদা চা খাওয়া যায়। এছাড়াও চর্বিযুক্ত খাবার গুলোর সাথে সাথে বাসি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। মদ্যপান করা যাবে না। কারণ হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে। তবে যে কোন ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে ওষুধ খেতে হবে।

রক্ত আমাশয় এর লক্ষণ

রক্ত আমাশয় অনেক আগের একটি রোগ। এই রোগটি হলে অনেকেই বুঝতে পারেনা যে, এটি আমাশয় না রক্ত আমাশয়। আর অনেকেই সহজে এটি বুঝতে পারেন। তবে রক্ত আমাশয় এর লক্ষণগুলো জেনে রাখা ভালো। ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হবে সাথে পেট কামড়ানি সহ পেটের মধ্যে মোচড় দেওয়া এবং পেট ব্যথা এই বিষয়গুলো লক্ষ্য করা যায়। মলদ্বারে ব্যথা অনুভূত হয় এবং রক্ত বের হয়। শরীর অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে রোগীর অনেক জ্বর থাকবে। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

রক্ত আমাশয় হলে করণীয়

আমাশয়ের সাথে সাথে রক্ত আমাশয় হয়ে থাকে। এই রক্ত আমাশয় হলে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা আনতে হয়। অর্থাৎ যে খাবারগুলো রক্ত আমাশয়ের ক্ষেত্রে উপকারী সেগুলো খেতে হবে। এই সময় তরল জাতীয় খাবার গুলো খাওয়া উচিত। যেমন ভাতের মাড়ি, ডাবের পানি সহ ফলের রস ইত্যাদি তরল খাবারগুলো খেতে হবে।
কাঁচা কলা খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। চিড়া এক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী একটি খাবার। আর যে খাবারগুলো খেলে আমাশয় রোগের ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে সেগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে আমাশয় রোগের ক্ষেত্রে কোন খাদ্য কিংবা কোন ওষুধ খেতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উচিত।

শিশুদের আমাশয়ের লক্ষণ

শিশুদের ক্ষেত্রে আমাশয় হলে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়। কিন্তু অনেক বাবা-মা রয়েছে যারা এই আমাশয়ের লক্ষণ বুঝতে পারে না। আবার অনেকেই খুব দ্রুত সেটা বুঝতে পারেন। এ সময় শিশুর ডায়রিয়া হতে পারে। পাশাপাশি পেটে ব্যথা সহ জ্বর হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে শিশুর অনেক কষ্ট হয়ে থাকে। তাই এই সময় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে ওষুধ খাওয়াতে হবে।

শিশুদের রক্ত আমাশয় হলে করণীয়

শিশুদের রক্ত আমাশয় হলে কিছু করণীয় রয়েছে, যেগুলো পালন করলে এক্ষেত্রে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই স্যালাইন পানি খাওয়ানো উচিত। এই সময় পানি শূন্যতার অভাব দেখা দিতে পারে। তাই অভাব পূরণ করার জন্য ডাবের পানি, ফলের রস ইত্যাদি তরল খাবারগুলো খুবই কার্যকরী। খাবার খাওয়ানোর আগে অবশ্যই হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। জামাকাপড় বা অন্যান্য জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখতে হবে। 
এগুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের করণীয় রয়েছে যেগুলো অবশ্যই পালন করার মাধ্যমে শিশুদের রক্ত আমাশয় কমানো যেতে পারে। তবে যে কোন ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু ব্যবহার বা খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে।

বাচ্চাদের আমাশয় সিরাপ

এক্ষেত্রে একটা কথায় বলবো, বাচ্চাদের আমাশয় হলে কোন ওষুধ খাওয়ানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়াতে হবে। এবং অবশ্যই রোগের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

বাচ্চাদের আমাশয় হলে কি খাওয়া উচিত

বাচ্চাদের আমাশয় হলে যে কোন খাবার দেওয়া উচিত নয়। কারণ এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো বাচ্চাদের খাওয়া হুমকিস্বরূপ হতে পারে। মুখরোচক খাবার গুলো থেকে বিরত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ভাজাপোড়া অনেক ক্ষতিকর। তাই বাচ্চাদের এই খাবারগুলো থেকে দূরে রাখায় উত্তম। এই সময় তরল জাতীয় খাবার গুলো খাওয়ানো উচিত। স্যালাইন বেশি বেশি খাওয়াতে হবে। ডাবের পানি খাওয়ানো যেতে পারে। তবে যে কোন কিছু খাওয়ানোর আগে বিশেষজ্ঞের বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়াতে হবে।

আমাশয় রোগের প্রতিকার

আমাশয় রোগ হলে এর কিছু প্রতিকার রয়েছে। কিছু কিছু নিয়ম বা কিছু পদ্ধতি পালন করার মাধ্যমে আমাশয় রোগ প্রতিরোধ বা প্রতিকার করা যায়। যেমনঃ
  • এক্ষেত্রে বাসি খাবার পরিহার করতে হবে।
  • খাওয়ার আগে এবং পরে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা।
  • আদা আমাশয় নিরাময়ে সাহায্য করে থাকে।
  • সব সময় পরিষ্কার জিনিসপত্র ব্যবহার করতে হবে।
  • অর্জুন গাছের ছাল ব্যবহার করলে এক্ষেত্রে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
  • ভাজাপোড়া ও ঝাল যুক্ত খাবার গুলো পরিহার করতে হবে।
  • এক্ষেত্রে অবশ্যই পরিষ্কার পানি পান করতে হবে।
সুতরাং উপরোক্ত পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করলে অনেকাংশে আমাশয় রোগ কমে যায়। তবে সর্বক্ষেত্রে কোন কিছু খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আমাশয় রোগের ঔষধ কোনটি

আমাশয় রোগ হলে স্যালাইন সহ তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করা উত্তম। বিশ্রাম গ্রহণের সাথে সাথে পুষ্টিকর খাদ্যগুলো খেতে হবে।Alexid,Pinam,Emcil ইত্যাদি ঔষধ গুলো ব্যবহার করা যেতে পারে‌। এছাড়াও আরো ওষুধ রয়েছে। তবে যে কোন ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে।

আমাশয় রোগের ট্যাবলেট

আমাশয় রোগের ক্ষেত্রে কিছু ট্যাবলেট ব্যবহার করলে এক্ষেত্রে কিছু উপকার পাওয়া যায়। তরল জাতীয় খাদ্যের পাশাপাশি এই ওষুধ ব্যবহার করা যেতে। এক্ষেত্রে Norflox Tz ট্যাবলেট বেশ উপকারী ‌ এছাড়াও মেট্রোনিডাজল ব্যবহার করা হয়। তবে আবারো বলবো যে কোন ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষুধ খাবেন।

শেষ কথা

পরিশেষে, আমাশয় রোগকে ছোট মনে করলেও এটি বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর উপরোক্ত আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম আমাশয় রোগের কারণ কি, কিভাবে প্রতিকার করা যায়, আমাশয় রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার গুলো কি কি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে।

তাই আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে আমাশয় রোগ সম্পর্কে অবশ্যই কিছু ধারণা পেয়েছেন। যদি একটু উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে দিন এবং নতুন নতুন তথ্য জানার জন্য এই ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন। আর্টিকেলটি ধৈর্য সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url